অন্যের সাফল্য গাঁথা শোনা কীভাবে এড়াবেন।

কারো কারো সঙ্গে চললে তাঁদের সাফল্য গাঁথা আর অর্জিত সম্পত্তির হালকা উত্তাপে আপনি এই শীতেও ঘামা শুরু করবেন ; আমিও করতাম।

তবে ইদানীং ব্যাপারটা আমি অন্যভাবে অ্যাডজাস্ট করা শিখে ফেলেছি।
এই ধরণের লোককে সর্বাংশে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। এড়াতে না পারলে, ধারে কাছে কম ঘেঁষি। সেটাও যদি না হয়, তবে তার সাফল্যের কাহিনী ( যেটা শুনে আমার দুই পয়সার লাভ নাই ! ) শুরু হওয়ার পরে আমি প্রসঙ্গ চেঞ্জ করি। সেটা রাজনীতি, আবহাওয়া, দেশের অবস্থা ধুনুফুনু কিছু একটা দিয়ে । মানে , তিনি যে ফিল্ডে এক্সপার্ট সেই ফিল্ড থেকে সরিয়ে নিজের চেনাজানা মাঠের কাছাকাছি নিয়ে আসি। তখন আর আলোচনা বেশীক্ষণ চলে না, কারণ তিনি সেটাতে মজা পান না।

এদের জীবনের একটাই আনন্দ, আরেকজন বঞ্চিতকে নিজের প্রাপ্তির হিসেবের খাতা , শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাতার পর পাতা শুনিয়ে শুনিয়ে উপসংহার টানা যে, আসলে তিনি এই বাস্তব পৃথিবীর একজন বাস্তব মানুষ—আর আমি আমার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও খাঁটি একটা বোকা োদা !

ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র।। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ( সাফল্য )

বড় কিছু পেতে হলে আমাদের যে কিছু দিতে হবে , এ তো নতুন কথা নয়। কিন্তু তা নিগ্রহ বা কষ্টের মধ্য দিয়ে দিলে হবে না, দিতে হবে জীবনের সুপ্রচুর উদ্‌যাপনের ভেতর দিয়ে। সব কাজ আমাদের কাছে সমান আনন্দ নিয়ে আসে না । অথচ আনন্দ না থাকলে সাধনা শুকিয়ে ওঠে। অবন ঠাকুরের খুব সুন্দর একটা কথা আছে । কথাটা হলঃ ‘ মানুষ কি ভেরেণ্ডা গাছ খেতে পারে ? পারে না; কিন্তু আখ গাছ খেতে পারে। কেন? খেতে পারে এর ভেতরকার মাধুর্যের জন্য ।এর ভিতর মিষ্টি রস আছে বলে।’ জীবনও তা-ই । এর পরিপক্ব ফলটি পেতে হলে এর ভেতরকার মাধুর্যটি আস্বাদন করতে হয়। না হলে এ হয়ে যায় খরখরে কাঠের মতো।

জীবন উৎসর্গ করা মানে ভয়ংকর চেহারা করে দুরূহ শপথে জীবনকে শ্বাসরুদ্ধ করা নয়। উৎসর্গের আসল মানে আনন্দ। উৎসর্গ মানে উদ্‌যাপন । সর্বোচ্চ আনন্দ আর উদ্দীপনার আলোয় বিচ্ছুরিত হওয়া। যার কাছে বেঁচে থাকা মানে জীবনকে নিগ্রহ নিষ্পিষ্ট করা , সে কিন্তু আসলে জীবন উৎসর্গ করে না। কর্মদানব আর কর্মবীর এককথা নয়। কর্মদানব জীবনকে জবাই করে জীবনকে পায় , আর কর্মবীর পায় জীবনকে বিকশিত করে। ওটাই প্রকৃত উৎসর্গ । এ উৎসর্গ শ্রেয়তর জীবনের জন্য । উচ্চতর লক্ষ্যের জন্য । ….

তাই সফল সেই মানুষ – যে পৃথিবীর কাছ থেকে নেয় বেশি আর সার্থক সেই মানুষ – যে দেয় বেশি। এই সার্থকতাই শেষপর্যন্ত জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু একটা বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত সাফল্য আমাদের চাই। যেমন, টাকার কথাই ধরা যাক। অনেক বেশি হয়ে গেলে এ আত্মঘাতী জিনিশ। কিন্তু কিছু পরিমাণ না হলে তো সবই ভণ্ডুল। সব ক্ষেত্রের জন্যই এ সত্য।

ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।।