ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র।। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ( সাফল্য )

বড় কিছু পেতে হলে আমাদের যে কিছু দিতে হবে , এ তো নতুন কথা নয়। কিন্তু তা নিগ্রহ বা কষ্টের মধ্য দিয়ে দিলে হবে না, দিতে হবে জীবনের সুপ্রচুর উদ্‌যাপনের ভেতর দিয়ে। সব কাজ আমাদের কাছে সমান আনন্দ নিয়ে আসে না । অথচ আনন্দ না থাকলে সাধনা শুকিয়ে ওঠে। অবন ঠাকুরের খুব সুন্দর একটা কথা আছে । কথাটা হলঃ ‘ মানুষ কি ভেরেণ্ডা গাছ খেতে পারে ? পারে না; কিন্তু আখ গাছ খেতে পারে। কেন? খেতে পারে এর ভেতরকার মাধুর্যের জন্য ।এর ভিতর মিষ্টি রস আছে বলে।’ জীবনও তা-ই । এর পরিপক্ব ফলটি পেতে হলে এর ভেতরকার মাধুর্যটি আস্বাদন করতে হয়। না হলে এ হয়ে যায় খরখরে কাঠের মতো।

জীবন উৎসর্গ করা মানে ভয়ংকর চেহারা করে দুরূহ শপথে জীবনকে শ্বাসরুদ্ধ করা নয়। উৎসর্গের আসল মানে আনন্দ। উৎসর্গ মানে উদ্‌যাপন । সর্বোচ্চ আনন্দ আর উদ্দীপনার আলোয় বিচ্ছুরিত হওয়া। যার কাছে বেঁচে থাকা মানে জীবনকে নিগ্রহ নিষ্পিষ্ট করা , সে কিন্তু আসলে জীবন উৎসর্গ করে না। কর্মদানব আর কর্মবীর এককথা নয়। কর্মদানব জীবনকে জবাই করে জীবনকে পায় , আর কর্মবীর পায় জীবনকে বিকশিত করে। ওটাই প্রকৃত উৎসর্গ । এ উৎসর্গ শ্রেয়তর জীবনের জন্য । উচ্চতর লক্ষ্যের জন্য । ….

তাই সফল সেই মানুষ – যে পৃথিবীর কাছ থেকে নেয় বেশি আর সার্থক সেই মানুষ – যে দেয় বেশি। এই সার্থকতাই শেষপর্যন্ত জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু একটা বিশেষ পর্যায় পর্যন্ত সাফল্য আমাদের চাই। যেমন, টাকার কথাই ধরা যাক। অনেক বেশি হয়ে গেলে এ আত্মঘাতী জিনিশ। কিন্তু কিছু পরিমাণ না হলে তো সবই ভণ্ডুল। সব ক্ষেত্রের জন্যই এ সত্য।

ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।।

ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র।। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

ডিপ্রেশন এলে মানুষ অহংকে হারিয়ে ফেলে ।তখন সে কেন বেঁচে আছে , কেন ঘুরে দাঁড়াবে , কেন জীবনকে তার আদৌ দরকার- সব বোধ সে খুইয়ে বসে।
আমাদের দেশে আমরা কিন্তু মানুষের উপর অসম্ভব অত্যাচার করি। কারণে-অকারণে তাদের ছোট করি। আমাদের স্কুলগুলোর অনেক শিক্ষক ছাত্রদের নানারকম শাস্তি দেন, অনেকসময় তাতে আত্মমর্যাদা পুরো নষ্ট করে দেন।
আমাদের স্কুলে এক স্যার ছিলেন, তাঁকে যদি ছাত্ররা কেউ কোনো প্রশ্ন করত , তিনি সঙ্গে সঙ্গে উল্টো প্রশ্ন করতেন –বাড়ি কোথায় ? ছাত্র যদি বলত- নোয়াখালী ; সাথে সাথে তিনি সর্বজ্ঞের হাসি হেসে মন্তব্য করে উঠতেন – ও ! এই জন্যই । সবাই হো হো করে হেসে উঠতো। আমাদের দেশে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে , পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেকটা জায়গায় প্রতি মুহূর্তে মানুষকে ছোট করা হয় । ‘ তুই কে, তুই কী , তুই কেন, তুই কিছু না , তুই আসলে একটা … মানে তুই একটা তুই!’…এইসব কথাবার্তা সবখানে। তার ফলে আমাদের অধিকাংশ মানুষ যে যার জায়গায় ছোট হয়ে মরে থাকে।
বিশ্বের প্রতিটা এয়ারপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করে দেখবেন , নিজেকে রাজার মতো লাগবে। কিন্তু আমাদের এয়ারপোর্টে মনে হবে অন্যরকম। সবাই এমন চোখে তাকাবে যেন মনে হবে বলছে , কে ঢুকল রে … কী নিল রে … ধর রে … বাঁধ রে … । এমনই অপমান সবখানে।

” ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।।”