by Jahid | Nov 29, 2020 | সাম্প্রতিক
আমি ছাপোষা চাকরিজীবী। টেক্সটাইল-গার্মেন্টস ট্রেডে আছি দুইযুগ ধরে।
ইদানীং কিছু প্রশ্ন টেবিলে মুখোমুখি বসলেই চলে আসছে। নিজের দুঃখ শেয়ার করতে গিয়ে, অনেকেই এই প্রশ্নগুলো করছেন। নানা প্রশ্ন –ভাই গার্মেন্টসের এ কী অবস্থা ! আপনার মতামত কি , অর্ডার ফ্লো আসবে কবে, আদৌ কি আসবে ? এই সেক্টরের হচ্ছেটা কি ! সরকার কি করছে ? বিজিএমইএ কি করছে? মালিকপক্ষ কি করছে?
এই সেক্টরে বহু রথীমহারথী ছাড়াও শ্রমিক পর্যায়ে সরাসরি জড়িত ৪০ লক্ষ লোক। রপ্তানির ৮১ ভাগ এই গার্মেন্টস দিয়ে আর জিডিপির ২০ ভাগ এখান থেকে। এখন পর্যন্ত আর কোন বিকল্প ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি বা ওঠার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। আমি আদার ব্যাপারী জাহাজের খোঁজ নেওয়া অনুচিত হলেও কিছু ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ শেয়ার করতেই পারি। সেটা কারো পছন্দ হবে, কারো হবে না। আমার কাজ আমি করি।
প্রথমত: বাংলাদেশ বিশ্বের গার্মেন্টসের মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ উৎপাদন করে। এর মানে, আমরা মেধাতালিকায় চীনের পরে দ্বিতীয় হলেও সেটা অনেক নাম্বারের ব্যবধানে ! চায়না যদি করে ৩০০ বিলিয়ন ডলার, আমাদের ৩২ বিলিয়ন করতে হিমসিম। এর মানে, বিশ্ববাজারে আমাদের ইমপ্যাক্ট এমন কিছু নয় যে, আমাদের গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গেলে পশ্চিমের লোকজন কাপড়চোপড় ছাড়া অর্ধ-নগ্ন হয়ে চলবে! অন্য দেশগুলোর সক্ষমতা দিয়ে তাঁদের দিব্যি চলে যাবে।
আর, আমাদের বাংলাদেশ যে ধরণের বেসিক গার্মেন্টসগুলো করে ; সেগুলো এখন অবলীলায় পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ভারত, চায়না, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া মায় শ্রীলংকাও করতে পারে। অধুনা আফ্রিকার কিছু দেশও আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামা লিখিয়েছে। বছর দশেকের ভিতরে তাদের প্রোডাক্টের গুণগত মান আমাদের কাছাকাছি চলে যাবে বলে আশংকা করছেন সবাই।
প্রথমতঃ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝেছি, আমাদের আভ্যন্তরীণ দুটি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রেতা সংস্থা তাঁদের সোর্সিং এর ব্যাপারে ব্যাক-আপ নিয়েছিল। প্রথমটি ২০১৮ সালের গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি। অনেক কাহিনীর পরে সেটা যখন ২০১৮ সালের শেষভাগে কার্যকরী হওয়ার কথা ; তার বহু আগে থেকেই আমাদের সেক্টরের সবাই ক্রেতা-সংস্থাকে ক্রমাগত চাপ দিয়েছেন খুচরা মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য। ক্রেতা যে আইটেম ২ ডলারে কিনেছেন ২০১৮ সালে আমরা তাঁদেরকে আওয়াজ দিয়েছি, সেটা বেতন বৃদ্ধির পরে ন্যূনতম ২.৪০ ডলারে কিনতে হবে। আতংকিত ক্রেতা সংস্থা তাঁদের সোর্সিংকে বিভিন্ন দেশে ডিস্ট্রিবিউট করে ব্যাল্যান্স করেছেন। তাঁরা আমাদের উপর ঠিক সেইভাবে ভরসা করতে পারেন নি।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আমাদের জাতীয় নির্বাচন হয়েছে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এর আগের তথ্য উপাত্ত বলে –প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের পরে মাস ছয়েক বা বছর খানেক ধরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে। এই আশংকা থেকেও তাঁরা কিছু অর্ডার অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছেন।
এই দুই ক্রিয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়াতে দেখা গেল, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে অর্ডারের জন্য হাহাকার।
বিশাল বিশাল গার্মেন্টস ! একেকটা ফ্লোর এতো বড় যে এপাশ থেকে ওপাশ দেখা যায় না ! সেই সব ইন্ডাস্ট্রির ৪০ ভাগ থেকে শুরু করে ৫০ ভাগ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি ফাঁকা থাকা শুরু করল। যে গার্মেন্টস ২ ডলারে করেছেন মালিক, সেটা পারলে তিনি দেড় ডলারে করার জন্য প্রস্তুত। পুরো সেক্টরে একটা অরাজকতা শুরু হল।
এর বাইরে প্রথমেই যে কারণ নিয়ে কথা হচ্ছিল যে , আন্তর্জাতিক মার্কেটে আমাদের তেমন কোন ইমপ্যাক্ট নেই প্রথম থেকেই। না আছে কোন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, না আছে কোন ব্র্যান্ডিং।
‘পুকুর কাটা’ শেখার জন্য আমাদের সরকারী কর্মকর্তারা দল বেঁধে বিদেশ যাচ্ছেন, অথচ এই সেক্টরের অ্যাডভারটাইজমেনটের বা ব্রান্ডিং এর জন কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। আমি কয়েকবার আমেরিকার বিখ্যাত সোর্সিং ফেয়ার বা মেলা ( ম্যাজিক লাস ভেগাস)- এ গেছি কোম্পানির পক্ষ থেকে। আমাদের বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ও ট্রেডিং অফিসের আয়োজকদের সঙ্গে ইপিবি , পাট ও টেক্সটাইল মন্ত্রণালয়, সংসদ সদস্য আরো নানা শ্রেণির লোক গেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে।
প্রথম মেলায় যাওয়ার আগে। সম্ভবত: ২০১৩ সালে – অংশগ্রহণকারী সবাইকে ডাকা হল, জাতীয় সংসদ ভবনে। মাননীয় সংসদ সদস্য তাঁর নানা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমাদের কোন সমস্যায় তিনি নিজেও আমেরিকাতে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন।
তো, আমদের আমেরিকা ভ্রমণের শুরু। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের হুজ্জত পেরিয়ে, গুচ্ছের লটবহর আর গার্মেন্টসের স্যাম্পল নিয়ে আমরা মেলার দুইদিন আগে পৌঁছলাম। জেট ল্যাগ না কাটতেই দেড় দিন ধরে নিজেদের স্টলগুলো সাজালাম সাধ্যমত। একদম প্রথম সারিতেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্টল।
৫ দিনের মেলার প্রথম দিন একজন পূর্বপরিচিত সরকারী কর্মকর্তাকে দেখলাম, বিশাল সেই প্যাভিলিয়নে একটা টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে আছেন। সামনে একটা কাঁচের জারে কিছু চকলেট আর কিছু লিফলেট। হাই , হ্যালো হল। পরেরদিন দেখি তিনি নাই। আমেরিকার স্থানীয় দূতাবাসের একজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা বসে আছেন। এদিকে মেলা চলছে, আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নানাভাবে নানা ক্রেতাকে আমাদের বাংলাদেশ থেকে পণ্য কেনার জন্য , আমাদের কারখানাগুলো দেখে আসার জন্য অনুপ্রেরণা দিচ্ছি। দুপুরে খাই কি খাই না। অনেক রাতে ক্লান্ত হয়ে হোটেলে ফিরে স্বপ্ন দেখি নতুন ক্রেতার অর্ডারের।
দুইদিন পরে দেখি বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির সেই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাও নাই। ঢুঁ ঢুঁ !
এক চ্যাংড়া বয়সের ছেলে বসে আছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কে তিনি, কেন তিনি। যা উত্তর পেলাম, উনি সেই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার দুঃসম্পর্কের ভাই, আমেরিকা থাকেন, ভাই বলেছে, তাই বসে আছেন ! তো , এই হচ্ছে আমাদের সরকারী সফরের নমুনা।
আগের প্রসঙ্গে আসি। কেন এই অর্ডারের জন্য হাহাকার আমাদের এই সময়ে।
তৃতীয়ত: বিশ্ব মন্দার ধাক্কা অস্বীকার করার কিছু নাই। এটা যে কখন কোন দেশ থেকে শুরু হয়, আর কোথায় যেয়ে শেষ হয়, সেটা আমি অর্থনীতিবিদদের উপরে ছেড়ে দিচ্ছি।
আরেকটা বড় ব্যাপার বিশ্বজুড়ে নীরবে গত দুই দশকে ঘটে গেছে । সেটা হচ্ছে বিনোদনের জগতে ইন্টারনেট, স্মার্ট ফোন ও ভার্চুয়াল সেবা সারা বিশ্বকে গ্রাস করে নিয়েছে। এখন, আমাদের দেশে প্রতি বছর সরকারী হিসাবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে ৭ থেকে শুরু করে ১৫ শতাংশ হারে। আর মধ্য-স্বত্বভোগী ও অতি মুনাফাখোরদের লোভে বাড়ে আরো ১০ ভাগ বা আরো বেশি। যে পণ্য আপনি ২০১৮ সালে কিনতে পারবেন ১০০ টাকায়, সেটা ২০২০ সালে এসে হয়ে যায় ১৩০ টাকা বা আরো বেশি।
হ্যাঁ, দফায় দফায় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন সুবিধা বাড়িয়েছে সরকার বাহাদুর। সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে । বেড়েছে, প্রশাসন ও পুলিশের ক্ষমতা। থানা বেড়েছে, রাজনৈতিক চামচা বেড়েছে, স্যারের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু বাড়েনি আমাদের আমজনতার বেতন-ভাতা ও নাগরিক সুবিধা।
ও হ্যাঁ বেড়েছে !
আমাদেরও বেড়েছে ! আমাদের ট্যাক্সের পরিমাণ বেড়েছে, আমাদের যেসব নিত্য-পণ্য ছাড়া চলেনা, সেগুলোর রাস্তায় রাস্তায় চাঁদাবাজি বেড়েছে। ঢাকার মতো একটা ইতরের শহরে ট্রাফিক জ্যাম বেড়েছে।
পশ্চিমা দেশে এতোটা জুলুমবাজি নেই। আমি যে ক্রেতাকে ১০ বছর আগে হাজার চারেক ইউরোর বেতন পেতে দেখেছি, সে আজও ঐ বেতনের আশেপাশে। ১০/১৫ বছর আগে, পশ্চিমাদের বিনোদন ছিল খাওয়া দাওয়া, ঘোরাফেরা আর শপিং।
অধুনা , তাঁদের বাজেটে যোগ হয়েছে, আইফোন, স্যামসাং, আইপ্যাড, নেটফ্লিক্স, আমাজন ইত্যাদি। সুতরাং যে ক্রেতা আগে বছরে ২০টি পোশাক কিনত। সে বাজেট কমিয়ে কিনছে ১০/১২টা বা আরো কম। সে এখন চাইছে, কম দামে টেকসই পোশাক, ইদানীং যার নাম হয়েছে সাসটেইনেবল প্রোডাক্ট, গ্রীন প্রোডাক্ট ইত্যাদি । এই যে বিশ্বব্যাপী পোশাকের চাহিদা কিছুটা হলেও কমেছে, সেটার চাপ পড়েছে বাংলাদেশের মতো দেশের উপরে — যারা খুব লো কস্টে বেসিক গার্মেন্টস বানাতে পারে।
আফসোস ! বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য , নিজেদেরকে কম্পিটিটিভ করার জন্য , সম্মিলিতভাবে আমাদের আরএমজি ( রেডি মেইড গার্মেন্টস) সেক্টরের সঙ্গে জড়িত, মালিক, শ্রমিক, এজেন্ট, বিজিএমইএ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গত তিন দশকে তেমন কিছুই করেনি। চট্টগ্রাম পোর্ট, হাইওয়ে এইসবের কথা বাদই দিলাম ।
এদিকে মালিকদের এক শ্রেণি বুঝে না বুঝে তাঁদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছেন। সেই বাড়তি ক্যাপাসিটি এখন তাঁদের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধছে। আরেক শ্রেণি ব্যাংকের টাকা হাপিশ করে কানাডা আমেরিকায় কেটে পড়েছে। ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ১ লক্ষ ২ হাজার কোটি ঋণ অনাদায়ী। আর অনাদায়ী ঋণের মধ্যে শুধু টেক্সটাইল-গার্মেন্টস সেক্টরে অনাদায়ী আছে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বোঝেন অবস্থা !
সম্ভবত: ৮৪/৮৫ সালে শোনা। জনৈক ঈশ্বর অবিশ্বাসী নাস্তিক পশ্চিমা ভদ্রলোক ঢাকায় এসেছেন । মাস খানেক থেকে তিনি নাকি বিশ্বাসী হয়ে গেলেন। ‘কেন ভাই? কেন ভাই ?’ তো তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, ঢাকায় একমাস কাটানোর সময় তিনি বিভ্রান্তিতে ছিলেন, কীভাবে এই ঢাকার শহর চলছে, মানে কে চালাচ্ছে ! কোন নিয়মনীতি নাই। না আছে সরকার , না আছে অন্য কিছু ! তাই তিনি অবশেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে , অবশ্যই ঈশ্বর আছেন। একমাত্র ঈশ্বরই এই দেশকে চালাচ্ছেন। সুতরাং তিনি নাস্তিকতা ত্যাগ করে ধর্মের পথে চলে এসেছিলেন। তো ৮৫ সাল থেকে ২০২০ , ৩৫ বছরে তেমন কিছুর পরিবর্তন হয় নাই। গতকাল, অফিসের হ্যাপা সামলে, সন্ধ্যা ছয়টায় উত্তরা থেকে মিরপুরের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। বিশ্বরোডে এসে দেড় ঘণ্টা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে বসে থেকে, সোয়া আটটায় বাসায় ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে ঢুকলাম।
এমন একটা দেশে থাকি, যেখানে বেশিরভাগ কাজ হয় আল্লাহর ওয়াস্তে।
আপনার যদি পশ্চিমাদেশে ঈশ্বর অবিশ্বাসী কোন বন্ধুবান্ধব থাকে , তাঁকে ঢাকা শহরে মাস-খানেক থাকতে বলেন। সর্বময় ঈশ্বরের উপরে তাঁর ভরসা না এসে উপায় থাকবে না।
প্রকাশকালঃ ১৫ই জানুয়ারি,২০২০
by Jahid | Nov 25, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি, সাম্প্রতিক
বছর দশেক আগে ট্রেডের এক বড়োভাইয়ের সাথে তৈরী পোশাকশিল্পের আশা নিরাশা ও বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা হচ্ছিল। উনি আমার মতোই সাংঘাতিক আশাবাদী মানুষ। বললেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে জাহিদ।একটা উদাহরণ দিয়ে উনি বোঝালেন, ‘আশির দশকে আমরাতো সবাই ছাত্র ছিলাম। চিন্তা করেনতো , সেই সময় রাত দশটা-এগারোটার পরে ঢাকার রাস্তার চেহারা কেমন ছিল?’
আমি বললাম, ‘কেমন আর ছিল, অনেকটা মফঃস্বলের মতো বারোটা না বাজতেই সুনসান ঢাকার রাস্তা!’ উনি জিজ্ঞাস করলেন, ‘এখন কী রকম? অনেক পরিবর্তিত না ? আজ আপনি গভীর রাতে ঢাকার রাস্তায় বের হন, বাসে , ট্রাকে টেম্পোতে অনেক লোকের আনাগোনা দেখবেন। এবং এঁরা কোন না কোনভাবে তৈরী পোশাকশিল্পের সাথে জড়িত। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে ২৪ ঘণ্টা অনেক লোকের হাড় ভাঙা খাটুনি ! এই দেশের একটা বিশাল জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে প্রতিযোগিতা করে পোশাকশিল্পকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেছে ! যে দেশের লোকজন এইরকম পরিশ্রম করছে, সেই দেশ এগিয়ে যাবেই যাবে, দেইখেন আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’
মাঝে মাঝে গার্মেন্টস মালিকদের সাথে কথা হয়। অনেকেই বিকল্প কোন সেক্টরের কথা চিন্তা করতে বলেন বা জিজ্ঞাসা করেন , অন্যকোন ব্যবসা ক্ষেত্র আছে কীনা । ৯০ এর দশকের কোটা কেনাবেচার আমলে গার্মেন্টসের ব্যবসায় রমরমা লাভ ছিল, আজ বড়ো বড়ো সব গ্রুপগুলো কোটার ব্যবসা করে শত শত লাইনের আর ডজন ডজন বিল্ডিং এর মালিক। দুই ডলার যদি সিএম( কাটিং মেকিং কস্ট ) থাকতো, কোটা থেকে পেতেন কুড়ি ডলার । যারা সেই আমলের গার্মেন্টস ব্যবসা করেছেন তারা জানেন কী পরিমাণ লাভ তারা করেছে ! কিন্তু পরের যুগের গার্মেন্টস উদ্যোক্তারা যে কত রকম সীমাবদ্ধতার মাঝখান দিয়ে এই সেক্টরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন , সেটা আমরা কাছ থেকে অনেকেই দেখছি।
আমাদের আসলেই একটা বিকল্প ক্ষেত্র দরকার! এই একরৈখিক একমাত্রিক পরনির্ভরতা আমাদেরকে নীদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পশ্চিমা ক্রেতারা জানে, এই তৈরী পোশাক খাতে যারা বড়ো বড়ো বিনিয়োগ করে বসে আছেন তাঁদের অর্ডার দরকার। অনেকে শুধুমাত্র পেটেভাতে দাম মিললেও অর্ডার নিয়ে নেন। এইটাকে আমরা বলি ব্রেক ইভেন কস্ট( Break Even Cost) -এ অর্ডার নেওয়া । ফ্লোর বসিয়ে রাখলে যে ক্ষতি , সস্তার অর্ডার নিয়ে ফ্লোর চালালে অন্তঃত আর্থিক ক্ষতিটা কম । এ এক দুর্ভেদ্য দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছেন তারা। আবার নতুন উদ্যোক্তারা। ১৮% সুদে ব্যাংক লোন নিয়ে, সস্তার কাজ নিয়ে ন্যূনতম লাভ তুলতে পারছেন না।
অঙ্কের হিসাব-নিকাশের বাইরে ক্রেতাদের সাথেও ক্যাজুয়াল কথা বার্তা হয় মাঝে সাঝে। যারা ফ্যাশন ক্রেতা(Fashion Retail) তারাও হুমকির মুখে আছে কিছু ডিসকাউন্টারের অতি মূল্যহ্রাসের দুষ্টচক্রে। যে ফ্যাশন ক্রেতা, সে হয়তো ৫০০০ টি-শার্ট নিবে। সে ২.৫ বা ৩ ইউএস ডলার এফওবি(FOB) দিয়ে কিনে ৯ বা দোকানভেদে ১৫ ইউরোতে বিক্রি করবে। তাঁদের প্রাথমিক লভ্যাংশ ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ থাকে। পরে সেল ও অফ সিজন ধরে দোকান খরচ দিয়ে পুষিয়ে যায় । কিন্তু, ডিসকাউন্টাররা ওই একই টি- শার্ট ৫ লক্ষ পিস নিবে। সে কিনতে চাবে , ১.৫০ ডলারে, এখন সে যদি চায় কম লাভ , তবে ওই একই টি-শার্ট রিটেল মার্কেটে সে ইচ্ছা করলেই দেড় থেকে দুই ইউরোতে বিক্রি করতে পারবে। সে কোন মার্কআপ রাখবে না। বড়ো বড়ো গ্রসারি ডিসকাউন্টার Wal-Mart, Primark, LIDL, TCHIBO, TESCO, ALDI এদের প্রধান পন্য কিন্তু পোশাক নয়, এরা মূলতঃ গৃহস্থালি পণ্য, শাক-সবজী, খাদ্যদ্রব্য, পানীয়ের ফাঁকে হাজারহাজার দোকানে সস্তার টি-শার্ট বিক্রি করছে নামমাত্র মূল্যে। এদের সাথে তাল মিলিয়ে INDITEX, H&M ক্রেতা আকর্ষন করতে ডলারে কিনে সমমূল্যের ইউরোতে পোশাক বিক্রি করছে। মানে, ২ ডলারে টি-শার্ট কিনে , ২ ইউরোতে বিক্রি করে ক্রেতা আকৃষ্ট করছে। মাঝখানে বিপদে পড়ে গেছে ওই মাঝারি মাপের ফ্যাশন রিটেলগুলো, যারা অনেক ডিজাইনার রেখে অনেক গবেষণা করে একটা টি শার্ট ৯ বা ১৫ ইউরোতে বিক্রি করতে চায়। দরিদ্র হিস্পানিক ও এশিয়ান ইমিগ্রান্টরা হন্যে হয়ে Wal-Mart, K-Mart, TESCO, PRIMARK এ ছুটে যাচ্ছে। Wal-Mart এরEveryday Low Price থিওরীর চক্করে পড়ে নাভিশ্বাস উঠছে আমাদের পোশাক প্রস্তুতকারীদের।
ওইদিকে আমেরিকা আর এইদিকে ইউরোপের মধ্যে জার্মানী আমাদের অন্যতম বৃহৎ তৈরী পোশাকক্রেতা দেশ। এদের বেশ কিছু নাম করা ডিসকাউন্টার আছে যাদের দোকানের সংখ্যা দশ হাজার, বারো হাজার মায় কুড়িহাজারপর্যন্ত আছে। পাড়ার মোড়ে মোড়ে এদের দোকান। বছরখানেক আগে , কী মনে করে আমেরিকা ও জার্মানী দুই দেশেরই কয়েকটা ডিসকাউন্টারের বড়ো বড়ো দোকান ঘুরে দেখার সুযোগ মিললো।
প্রথমে আসি , ওয়ালমার্টের কথায়। এদের কিছু সুপার শপ আছে। এইপাশ থেকে ওইপাশ দেখা যায় না। টয়লেট পেপার থেকে শুরু করে গাড়ীর চাকা পর্যন্ত বিক্রি করে। কতো সস্তায় এরা পণ্য বিক্রি করছে, উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। বাইরে ৫০০ মিলির একই ব্রান্ডের এক বোতল পানি হয়তো দেড় দুই ডলার। কিন্তু , সুপারশপে আপনি যদি এক সঙ্গে ২৪ টার এক ক্রেট পানি কেনেন তবে ক্রেটের দাম ৫ ডলার মানে প্রতি পিস পড়ছে ২০ সেন্ট ! ক্যাম্নে কী !
এইবার আসেন জার্মানীতে, বাইরে এক বোতল ওয়াইনের দাম ১৫ ইউরো। কিন্তু, সুপার শপে ৬টা এক সাথে কিনলে, ৪০ ইউরো। দেখলাম , একটা গ্যাস লাইটারের বাইরে দাম ১ বা দেড় ইউরো , কিন্তু এরা ১২ টা একসাথে বিক্রি করছে ১.৭৫ ইউরোতে মানে একটার দাম ১৫ সেন্টের কাছাকাছি !
একটা গ্যাস লাইটারের উৎপাদন খরচ চীনে কতো হতে পারে, আর জার্মানী পর্যন্ত এনে কেমন করে এই দামে বিক্রি করছে, সেটা বড়ো কোন গবেষণার বিষয় না। আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন। ধরেন ওই গ্যাস লাইটার চীন থেকে ৫০০০ পিস কিনলে আপনি যে দামে পেতেন, তার এক দশমাংশ দামে পাবেন , যদি আপনি পঞ্চাশ লক্ষ গ্যাস লাইটার কেনেন একসাথে । সেক্ষেত্রে একটি গ্যাস লাইটারের দাম ৩ বা ৪ সেন্ট করে পড়বে! সস্তায় ভোগপণ্য দেওয়ার প্রতিযোগিতায় এই ডিসকাউন্টারগুলো যে ভয়ংকর দুর্ভেদ্য দুষ্টচক্র তৈরি করেছে , সেটা ভাঙ্গার কোন লক্ষণ দেখছি না।
আর সাদা চামড়ার ওই সব খুচরা ক্রেতাদের কথা বলছেন, তারা সোফায় বসে টিভিতে বাংলাদেশের তাজরীন বা রানা প্লাজার কথা শুনে একটু উহু আহা করবে হয়তো। কিন্তু পরের দিন ভোরে উঠেই ছুটবে সেই সস্তার দোকানেই !
by Jahid | Nov 25, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি, সাম্প্রতিক
গার্মেন্টস নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও মালিকপক্ষের বিচ্ছিন্ন মন্তব্য ও মতামতের সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরছি। আমি এইখানে কোন পক্ষ অবলম্বন করছি না। আমি চাই, গার্মেন্টস ট্রেড থাকুক, প্রফেশনাল মালিক , শ্রমিক ও কর্মচারীরা কাজ করুক। কতিপয় অর্থগৃধ্নু মালিকের ও ক্রেতার জন্য সবাইকে দোষারোপের চলতি হাওয়া থেকে বের হয়ে আসুক মিডিয়া। যে কয় ডলারের ব্যবসাই করেন না কেন, ভালো পরিবেশে উন্নত শ্রমিকবান্ধব কারখানায় করেন।
ভাইরে, আমার আকাংখা দিয়ে তো আর বাংলাদেশ চলে না, তাই অন্যদের কিছু মন্তব্য শুনিঃ
ক্রেতাদের কিছু মন্তব্যঃ
১। বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ লোকের মতামত– আমারাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সস্তা শ্রমের দেশ । আমরা অপরিহার্য, চীনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আমরা ছাড়া পশ্চিমা ক্রেতাদের যাওয়ার কোন জায়গা নাই। ক্রেতাদের কথা –কিন্তু, একটা কথা সবাই ভুলে যাচ্ছো, পৃথিবীর মোট বস্ত্রচাহিদার ৪ থেকে ৫ শতাংশ মাত্র বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ২১/২২ বিলিয়ন ডলারের বাজার।
কথা সত্য , একক দেশ হিসাবে তোমরা চীনের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম। কিন্তু , ঐ যে বলেনা, বিশাল ব্যবধানে দ্বিতীয়, তোমরা তাই।
তো, কিছু বড়ো ক্রেতার অবস্থান অনেকটা এইরকম, ‘ বাংলাদেশ নিজেরে অপরিহার্য ভাইবো না। আমরা যদি ৯৫% বস্ত্র অন্য দেশ থেকে সোর্সিং করতে পারি। তোমাদের ৫% অন্য কোথাও থেকে ঠিকই আমরা ম্যানেজ করে নিব।’
ডাটা স্ট্যাটিস্টিক্স দিয়ে পোস্ট ভারি করবো না, কেউ উৎসাহী হলে, গুগলে যাইয়া দেখেন।
২। প্রতি পিস টি-শার্টে তোমাগো আরো দশ সেন্ট দিলে নাকি তোমরা শ্রমিক কল্যানের সব কিছু কইর্যা ফালাইব্যা । তোমাদের মতো দুর্নীতিবাজ জাতির পক্ষ থেকে কে গ্যারান্টি দেবে যে, ঐ অতিরিক্ত ১০ সেন্ট শ্রমিকের কল্যানেই লাগাইবা, নাকি হুদা মিছা মালিক ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের লাভের পরিমাণ খামোখা বাড়াইবা। শ্রমিক যেইখানে ছিল সেইখানেই থাকবে।
৩। যেকোন বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশেই বছর তিরিশেক পরে শ্রমঘন ভারী বা লোটেক শিল্প থেকে হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে গেছে। তোমাগো অবস্থা যা, তোমরা আরো তিরিশ বছরেও হাইটেকে যাইতে পারবা না ! তাইওয়ান, কোরিয়া, চায়না, শ্রীলংকা , মেক্সিকো যে দেশেই এই গার্মেন্টস শিল্প ছিল তারা তাঁদের প্রথম ৩০ বছর পরে কোথায় আর তোমরা কোথায় !
৪।মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ক্রেতা হিসাবে আমি আমার সর্বোচ্চ গুণগতমান সর্বনিম্ন খরচে চাইব। তোমার এখানে না পেলে অন্য জায়গায় যাবো। এখন তোমার দ্বায়িত্বই বেশী নিজস্ব ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কমপ্লায়েন্স করার জন্য তোমাদেরকেই ঠিক করতে হবে কীভাবে শ্রমবান্ধব পরিবেশে গার্মেন্টস উৎপাদন করবা।
আমার নিজের কথা, নতুন পে স্কেলে শ্রমিকের বেতন ৫০% বাড়লেও আমি মনে করি, তারপরেও বাংলাদেশ গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে।
মালিকপক্ষের বিচ্ছিন্ন কিছুকথা:
১।ভাই, গত তিরিশ বছরে সড়ক ও লঞ্চ দুর্ঘটনায় কতোজন মারা গেছে আর এতোবড় একটা গার্মেন্টস শিল্পে কতজন মারা গেছে, একটু কাইন্ডলি কম্পেয়ার করেন। একতরফা একটা দুইটা দুর্ঘটনা দিয়ে পুরো ট্রেডটারে কালপ্রিট বানাইয়েন না।
২।গাঁটের টাকা খরচ করে, বউয়ের গহনা বিক্রি করে, বাড়ি জমি বন্ধক রেখে ১৮ থেকে ২০% ব্যাংক ইন্টারেস্টে ব্যবসা করতে আসছেন। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কথা যদি বলেন– ব্যবসার অন্যতম উদ্দেশ্যতো মুনাফা , নাকি ? ব্যবসায় যদি মুনাফা না থাকে শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বলেন, তাইলে আপনারাই ব্যবসায় নামেন। সামাজিকতা করেন , চ্যারিটি করেন। বছর শেষে ব্যাংক লোন শোধ করতে হবে , মুনাফা করতে হবে আবার অদক্ষ শ্রমিকের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিতে হবে। ভালো , ভালো না !
৩।গ্রামের একটা অশিক্ষিত, বা স্বল্প শিক্ষিত শ্রমিক কোন প্রাথমিক ট্রেনিং ছাড়া এসে বসে যে পারিশ্রমিক পাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্য কোন সেক্টরে মনে করেন, চিংড়ী ঘেরে, কৃষিকাজে, দিনমজুরী করে, ঘরামী করে, যদি এর চেয়ে বেশী পাইতো, তাইলে কি তারা গার্মেন্টসে কাজ করতে আসতো ? সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছে বলেইতো তারা এই সেক্টরে !
আবার ডিমান্ড সাপ্লাই চেইন মেনে, শ্রমিকের প্রতুলতা ও অপ্রতুলতাই তাঁদের মজুরী কতো হবে ঠিক করে। আমরাতো শিকল দিয়ে বাইন্ধা রাখি নাই, পোপের মতো কথা বললেতো হবে না। ৫শ টাকা বেশী পাইলে, মালিকের কোন হ্যাডাটা ঠিক রাখতেছে শ্রমিকেরা। ঠিকইতো অন্য আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে।
দক্ষতার কথা বলেন, চীনা একটা শ্রমিক যে দক্ষতা নিয়ে কাজ করে , তার ৩০% দক্ষতাও আমাদের বেশীরভাগ শ্রমিকের নাই। ওদের বেতন বেশী হবে নাতো কী আমাদের রোকেয়া কুলসুমের বেতন বেশী হবে !
৪। সরকার , মিডিয়া সবাই বাংলাদেশের আর কোন শ্রমিকদের জন্য বছরে বছরে আপনারা বেতন বাড়াচ্ছেন বা বেতন বাড়ানোর জন্য প্রেসার দিচ্ছেন ? অন্যরা কী কি দোষ করছে। বৈষম্যতো আপনারাও করছেন। এখন গার্মেন্টসের শ্রমিকের বেতন ৮০০০ টাকা দিলে অন্য সব সরকারী বেসরকারী শ্রমিকেরা কী দোষ করলো। অন্য সব সেক্টরের শ্রমিকের বেতনও বাড়াতে হবে।
শ্রমিকের বেতন ৫০% বাড়াইলেন। সঙ্গে সঙ্গে কী হবে জানেন। বাড়ীভাড়া বাড়বে, খাদ্যের দাম বাড়বে, বাসভাড়া বাড়বে , বেকারীর দাম বাড়বে, ডিমের দাম বাড়বে। বাড়তি টাকার পুরোটাই অন্যের পকেটে যাবে। মুদ্রাস্ফীতির দায় শুধু মালিকদের উপর চাপাচ্ছেন কেনো?
সুশীল সমাজের একজন বললেন, তিরিশ বছরে গার্মেন্টস মালিকেরা সরকারকে কি দিয়েছেন। ২৫% ইনসেন্টিভ নিছেন। সারাক্ষণ গ্যাস বিদ্যুৎ নিয়ে চাপাচাপি করছেন। ট্যাক্স দিছেন কতো? কিছু কইলেই, কর্মসংস্থানের দোহাই দিয়ে আরো সহযোগিতা করতে বলেছেন। যে পরিমাণ ট্যাক্স ফাঁকি দিছেন, ওইটা দিয়া আরো হাজার খানেক ইপিজেড তৈরী করা যাইতো। কর্মচারী আমরা যারা, কয়জন ঠিকমতো ট্যাক্স দিই। বছরের মে-জুন মাস থেকে দৌড়াদৌড়ি ক্যামনে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া যায়।
তবে, উপরের সবকটা মন্তব্যেই আমার পরিচিত কোন না কোন ক্রেতা বা মালিক করছেন।আমি মনে করি , শ্রমিক, মালিক,ক্রেতা , সরকার ও বিরোধীদলের একটা সমন্বিত প্রক্রিয়া দরকার। সমন্ব্যহীনভাবে একেক জন একেকভাবে কি কি করতে চাচ্ছেন, বোঝা মুশকিল।উল্লেখ্য, শ্রমিক পক্ষের কারো সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয় নাই, কিন্তু টিভি মিডিয়াতে তাঁদের দাবী দাওয়া অত্যন্ত স্পষ্ট। সেইটা আমরা কমবেশী সবাই জানি।
সাম্প্রতিক মন্তব্য