by Jahid | Nov 29, 2020 | লাইফ স্টাইল
প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে কিছু লিখতে গেলে আমরা যারা দেশেই থাকি, তাদের প্রতি আমাদের প্রচ্ছন্ন পক্ষপাতিত্ব টের পাওয়া যায়। অনেকের অভিযোগ , প্রবাসীদের নানা কথাবার্তায় ও আচরণে দেশের ব্যাপারে করুণা বা ক্ষেত্র বিশেষে তাচ্ছিল্য প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হওয়াটা স্বাভাবিক। পশ্চিমের যে কোন একটা মানবিক, উন্নত অত্যাধুনিক দেশের তুলনায় আমাদের রাষ্ট্র-যন্ত্র, প্রশাসন ও ছোট্ট ভূমিতে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে আমরা তো জঙ্গলেই বাস করছি।
দুর্নীতি, অপশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, ট্রাফিক জ্যাম, ভেজাল খাবার, রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা যে দিকে তাকানো যায় –এক সীমাহীন হতাশার হাহাকার। মৌলিক চাহিদার অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা চিকিৎসার মধ্যে মনে হয় বস্ত্র নিয়েই তেমন কোন অভিযোগ শুনি না । গার্মেন্টস শিল্পে রফতানির পরে বেঁচে থাকা বাড়তি কাপড় ও পোশাকে বাজার সয়লাব। আগে দুই ঈদ ছাড়া মানুষ পোশাক কেনার কথা চিন্তাও করত না। এখন ধনী দরিদ্র সবাই সারাবছর নানা জামা কাপড়ের ভিতরে থাকে।
অন্যদিকে দেশে যারা থাকে, তারাও সুযোগ পেলেই প্রবাসীদের আত্মীয় পরিজনহীন বিচ্ছেদকাতরতা ও নানা বেদনা নিয়ে কটাক্ষ করার সুযোগ পেলে ছাড়ে না। প্রবাস মানেই উন্মুক্ত কারাগার । সব আছে , তবুও বন্দিদশা, ইত্যাদি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রবাস ও দেশ– দুই জায়গার বাংলাদেশীদের সাধুবাদ দিতে চাই। যারা প্রবাসে স্থায়ী হয়েছেন, তাঁরা এই দেশের যোগ্যতর। যোগ্যতা, সাহস, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার জোরেই তাঁরা বিদেশে গিয়ে থিতু হয়েছেন। দূর পরবাসে অসংখ্য ছোট্ট ছোট্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন। আরেক বিশাল জনগোষ্ঠী, যাঁরা শ্রমিক, তাঁদের আর্থিক প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বেদনা ও বঞ্চনার গল্প আরো মর্মান্তিক। পরিবারের সুখের জন্য জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময়টুকু বিলিয়ে দিয়ে শেষ জীবনে রিক্তহাতে ফিরে আসতে হয় দেশের মাটিতেই।
এই যে দুই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে করুণা ও কটাক্ষের চাপানউতোর চলে, তার কারণ সম্ভবত: তাঁদের নিজ নিজ অবস্থানের গভীর অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার ঈর্ষা।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ উপন্যাসে একটা ঘটনা আছে।
ঘটনা এই যে মাঘী পূর্ণিমায় চামুণ্ডা পূজার মেলায় কবিগানের পাল্লা হয়। নোটনদাস ও মহাদেব পাল—দুজনেই খ্যাতনামা কবিয়াল। মেলার দিনে মহাদেবের দল এসে আসরে বসল, কিন্তু নোটনদাসের সন্ধান নেই। একজন এসে জানালো নোটনদাস নেই। ‘বাসাতে কোথাও কেউ নাই মশায়—লোক না – জন না—জিনিস না , পত্তর না—সব ভো-ভোঁ করছে। কেবল শতরঞ্জিটা পড়ে রয়েছে—যেটা আমরা দিয়েছিলাম। শুনিয়া মেলা কর্ত্তৃপক্ষ স্তম্ভিত এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া গেল। লোকেরা হৈ হৈ করিয়া গোলমাল করিয়া উঠিল।’
তবে লেখক নোটনদাসের দোষ দেখেন না, গত মেলা থেকেই দুই কবিয়ালের টাকা পাওনা ছিল। আয়োজকরা বরাবর মাথায় আশীর্বাদ করে চলছিলেন। নোটন ও মহাদেব যেহেতু এই মেলায় বহুদিন ধরে গাওনা করে সেই কৃতজ্ঞতা ও চক্ষুলজ্জাতেই গতবার কিছু বলে নাই। কিন্তু এবারেও যখন নোটন প্রণাম করে হাত পাতল, তখন মোহান্ত টাকার পরিবর্তে তার হাতে দিলেন তাজা টকটকে একটা জবাফুল এবং আশীর্বাদ করলেন—‘ বেঁচে থাক বাবা, মঙ্গল হোক।’
ওজনদার দক্ষিণা ও নগদ বায়না পেয়ে সে দশ ক্রোশ দূরের মেলায় তার লোকজন নিয়ে ফিরতি ট্রেনে কেটে পড়ে।
“নোটন ভাগিয়াছে শুনিয়া অপর পাল্লাদার কবি মহাদেব আসরে বসিয়া মনে মনে আপসোস করিতেছিল। আজও পর্য্যন্ত নোটনের সহিত পাল্লায় কখনও সে পরাজয় স্বীকার করে নাই, কিন্তু আজ সে সর্ব্বান্তঃকরণে নীরবে পরাজয় স্বীকার করিল—সঙ্গে সঙ্গে নোটনকে বেইমান বলিয়া গালও দিল। তাহাকে বলিলে কি সেও যাইত না !”
দেশে যারা আছে, তাদের অনেকের অবস্থা সেই মহাদেবের মতো! সুযোগ পেলে সেও কি নোটনদসের মতো কেটে পড়ত না !
প্রকাশকালঃ ২রা ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কিছুদিন আগে , ২০১৩ সালের একটা স্ট্যাটাস রিপোস্ট করেছিলাম প্রবাস জীবন নিয়ে ।
কেন জানি না , কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মর্মাহত হয়েছেন। কেউ অবলীলায় বলেছে ‘ আঙুর ফল টক’ বলেই নাকি আমি প্রবাস জীবনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অনাবশ্যক গুরুত্ব দিয়েছি। প্রারম্ভিক ক্ষমা প্রার্থী হওয়া স্বত্বেও আমার লেখায় বিদ্রূপ ও বিদ্বেষের ছোঁয়া পেয়েছেন তাঁরা !
এটাও সত্যি সংখ্যালঘু অনেকেই প্রবাস জীবন বেছে নেওয়ার পরে আবার দেশে ফিরে আসতে চান ; কিন্তু পেরে ওঠেন না । কেন পারেন না , সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে।
মূলত: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আমাদের আগের কয়েক প্রজন্মের প্রবাস মুখী হওয়ার মূল কারণ । নতুন করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বাঁধাগুলো আমার দৃষ্টিতে নীচের কয়েকটি ; বিদ্বজ্জনেরা আরো কিছু বের করতে সমর্থ হবেন।
১। একবার উন্নত বিশ্বের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে নতুন করে বাংলাদেশের অশ্লীল, কদর্য পুতিগন্ধময় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন । যতো দেশপ্রেমের কথাই বলি না কেন, প্রতিনিয়ত নানা অদ্ভুতুড়ে প্রতিকার হীন সামাজিক ব্যাধি ও অন্যায়ের মুখোমুখি হয়ে স্নায়ুক্ষয় করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমার অনেক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী বন্ধু যাঁদের গায়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির গাঢ় সীল নেই ; নিতান্তই রাজনীতি বিমুখ –তাঁদের কয়েকজন ছেড়ে গেছেন প্রশাসনের সহ্যাতীত অবিবেচনার জন্য। এমন না যে , তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, তাঁরা ভেঙ্গে পড়েছিলেন ক্রমাগত অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করতে পারার মনোবেদনায়।
২। পরের সর্বগ্রাসী যে বিষয়টি আমাদের মেধাবী ও অমেধাবী সবাইকে ঠেলে দেয় পশ্চিমের দিকে তা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। পশ্চিমাদেশের তুলনায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা শতভাগের একভাগও নয়। একবার সেই নিরপত্তায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে তার মায়া কাটানো মুশকিল।
৩। আমাদের জীবনের অনিশ্চয়তা ছিল, আছে এবং থাকবে । নিতান্ত নির্বোধ ছাড়া আর সকলেই অনিশ্চয়তায় ভোগে। জীবনের অনিশ্চয়তার কাটানোর অলীক কল্পনা আচ্ছন্ন করে রাখে প্রবাসীদেরকে। তাঁদের ধারণা হয়, তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তা অনেক কমিয়ে ফেলেছে পশ্চিমা দেশ। তবে এই অনিশ্চয়তার প্রভাব বেশি দেখা যায় আমাদের উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যে।
৪। প্রথম প্রজন্মের মেধাবী অনেকেই তাঁদের অর্জিত ডিগ্রী ও মেধা নিয়ে ফিরে আসতে চান দেশে। কিন্তু তাঁদের মেধা প্রয়োগের বাস্তবিক কোন সুযোগ থাকে না। কেউ কেউ , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে তাঁর মেধার কিছুটা বিলিয়ে যেতে পারেন। অন্যদের বাধ্য হয়েই পশ্চিমাদেশের শিক্ষায়তনে ও ইন্ডাস্ট্রিতে দিনাতিপাত করতে হয়।
৫। দ্বিতীয় প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব ও অমানবিক ।কেউ একটা দেশে জন্মে সেখানে তাঁর কৈশোর কাটিয়ে ফেললে সেটি তাঁর সারাজীবনের স্মৃতি কাতর মাতৃভূমি হয়ে যায়। একটা শিশুর হয়তো স্বদেশ পরিবর্তনে কিছুই যায় আসে না। সে নতুন ভাষা ও কৃষ্টি সংস্কৃতিতে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু একটা কিশোর বা কিশোরীর বেড়ে ওঠার সময়ে মন দৈহিকতায় পরিপার্শ্বের সবকিছুর ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে। লন্ডন, সিডনী, নিউইয়র্ক যাই বলি না কেন, সেখানে বেড়ে ওঠা কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না ! আমার কাছে সেটি বড্ড অমানবিক মনে হয়।
আমার কয়েকজন আত্মীয়পরিজনদেরকে দেখেছি, দেশে ফিরে তাঁরা হয়তো পুনরায় কোন না কোনভাবে আমাদের ধুলাবালিতে অভ্যস্ত হতে পেড়েছেন। মশার কামড়ে তাঁদের তেমন কিছু হচ্ছে না ; কিন্তু প্রবাসে জন্ম নেওয়া বা শৈশবেই চলে যাওয়া শিশু-কিশোরের বাংলাদেশের ধূলায়, লোডশেডিং , ট্রাফিক জ্যামে আর মশার কামড়ে প্রাণান্ত হয়। দেখে মায়া লাগে।
৬। আরেকটি প্রকট বা প্রচ্ছন্ন কারণ আছে। সেটা আমার বেশ কয়েকজন প্রবাসী সতীর্থের সংগে অন্তরঙ্গ আলোচনার উপলব্ধি । আসলে শিক্ষিত বাঙালী মেয়েরা বিয়ের পর নিজের স্বামী সন্তানদেরকেই নিজের পৃথিবী মনে করে। সামাজিকতায় অভ্যস্ত হয়ে, স্বামীর কর্মস্থল যে জেলাতেই হোক, যে দেশেই হোক আপন করে নেয়। তারপরেও প্রবাস জীবনে একাকীত্বের সঙ্গে অবাধ স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ থাকে। ছোট্ট নিউক্লিয়াস পরিবারের স্বামীকে দিনে ঘন্টাখানেক সময়, আর বাচ্চাকে কিছুক্ষণ সময় দিলে বাকী সময় একান্ত নিজের ।
ঠিক উল্টোটা বাংলাদেশে। নিজের স্বামী-সন্তান- সংসারের পাশাপাশি, শ্বশুর- শাশুড়ি, দেবর- ননদ, ভাশুর- ভাবী, স্বামীর মামাতো, চাচাতো খালা-মামা-চাচা-ফুফু ; নাই নাই করেও গুচ্ছের বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে সময় দিতে হয় , ম্যানেজ করে চলতে হয়। পাশাপাশি থাকে পারিবারিক রাজনীতি ও কূটকচাল।
শিক্ষিত বাঙালী প্রবাসী গৃহবধূদের শতভাগ তাই দেশে ফিরে নতুন করে বসবাসে সবচেয়ে বড় অনিচ্ছার কারণ হয়ে পড়েন।
by Jahid | Nov 27, 2020 | লাইফ স্টাইল, সমাজ ও রাজনীতি
আমার প্রবাসী আত্মীয়-বন্ধুদের প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রেখে এই পোস্ট দিচ্ছি। কেউ এটাকে পারসোনালি নিবেন না, সেই আশা করতেই পারি।
বছর খানেক আগে এক কানাডা প্রবাসীর সাথে কথা হচ্ছিল। নানা কথার পরে সে যেটা বলল সেটা মনে দাগ কাটার মতো বলেই এখন পর্যন্ত মনে আছে।
কানাডা প্রতি বছর লক্ষাধিক এশিয়ান নিচ্ছে ইমিগ্রান্ট হিসাবে। ইদানীং শুনছি লাখ তিনেক ডলার ওখানকার ব্যাংকে রাখলে বা জয়েন্টভেঞ্চারে ইনভেস্ট করলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি কনফার্ম। ২০০১ সাল থেকে গড়ে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লক্ষ থেকে তিন লক্ষ লোক কানাডা প্রবাসী হচ্ছে বিভিন্ন এশিয়ান দেশ থেকে। এইসব পশ্চিমা দেশগুলো গরীব-দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের অর্থনীতিতে পাম্প করে এঁদের প্রবৃদ্ধি বাড়াচ্ছেন।
আমি অর্থনীতিবিদ নই, ব্যক্তিগত হিসাবেও যথেষ্ট কাঁচা । তবু একটা সংক্ষিপ্ত হিসাব দেওয়ার চেষ্টা করি। ধরেন ২,৫০,০০০ ইমিগ্রান্ট X US$ ৩,০০০০০= US$ ৭,৫০০০০০০০০০.০০ মানে সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার ! এইবার আপনি ওইখানে পৌঁছানোর পর ওই উন্নত দেশের নানারকম সুবিধায় চমৎকৃত হতে থাকবেন, হতেই থাকবেন।
কেননা, আপনি তো গেছেন পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি থেকে। আপনি রাস্তা দেখে , বাতি দেখে অবাক হবেন, করিৎকর্মা পুলিশের ভেঁপু শুনে অবাক হবেন। বহু শতবর্ষের লক্ষ লোকের ঘাম-রক্তের বিনিময়ে গড়া আমাদের চেয়ে শত বৎসর এগিয়ে থাকা সভ্যতার ঘি মাখন এয়ারপোর্ট থেকে নেমেই বিনা পরিশ্রমে আপনি ভোগ করা শুরু করবেন । । বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের কাছে আর বন্ধু-বান্ধবের কাছে ফোন করে নানা রকম তুলনামূলক তত্ত্ব শোনাবেন আর আমাদের দীর্ঘশ্বাস শুনে বিমলানন্দ উপভোগ করবেন।
তবে আসল শুভঙ্করের ফাঁকি ব্যাপারটা অনেকে বুঝে ফেলেন কয়েকবছরের মধ্যে । আপনারই দেওয়া টাকাপয়সায় আপনার ওয়েলফেয়ার ইনস্যুরেন্স, গাড়ি বাড়ি লোনের হ্যাপায় ওই পশ্চিমা দেশ আপনাকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াবে , আপনি তখন ধোপার গাধা– না ঘরকা , না ঘাটকা! এই দুষ্ট চক্রের বাইরে আসতে পারবেন না। আপনি ও আপনার প্রিয় পরবর্তী প্রজন্ম ওই চক্করের ভিতরে থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে চীজ বার্গার খেয়ে দিনাতিপাত করবেন। যখন বুঝবেন, ততদিনে ওই দুর্ভেদ্য চক্র ভাঙ্গার সাহস বা সামর্থ্য দুইটাই অবলুপ্ত আপনার।
একইভাবে, নন প্রোডাক্টিভ কিছু দেশ আছে, যেমন যুক্তরাজ্য বা ইংল্যান্ড। লক্ষ লক্ষ ছাত্র প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার এশিয়া থেকে নিয়ে যেয়ে ওই দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়াচ্ছে আর চক্করের ভিতরে পড়ছে।পড়ুক, আমার তাতে কোন আপত্তি নাই। আপনি দুধ বেচে তামাক খাবেন , নাকি তামাক বেচে দুধ খাবেন সেটা আপনার ইচ্ছা।
কিন্তু , আমার আপত্তি অন্য খানে!
কোন কোন প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে ভিওআইপি সস্তা রেটে কল করে বা ফ্রী স্কাইপে, ভাইবারে, হোয়াটস অ্যাপে আধাঘণ্টা ধরে বাংলাদেশের ‘আম্লীগ বিম্পি’ নিয়া কচলা কচলি করে, আর বোঝানোর চেষ্টা করে আমরা কতিপয় ভোঁদাই আমজনতা আসলে গুপ্তকেশ উৎপাটন করছি । উপসংহারে বা গৌরচন্দ্রিকাতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় , ‘দেশটার হচ্ছে টা কি?’
কেন জানি না তাঁদের ধারনা হয়েছে , বাংলাদেশে আমরা শুয়ে বসে আর টকশো দেখে দিনাতিপাত করছি। । আর দুই বরাহ শাবকের দলকে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় এনে দেশের বারোটা বাজাচ্ছি। আমরাও যে ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছি, অফিসের টাইমে হুদা মিছা প্যাঁচাল না পেড়ে আমরাও যে , যে যার জায়গায় পরিশ্রম করে যাচ্ছি, এটা তাঁদের বোঝানো মুশকিল। মনে হয় দুনিয়াতে তাঁরাই শুধু ব্যস্ত আর আমরা শুধু গুপ্তকেশ উৎপাটন করে আঁটি বাঁধছি ! আগে মন দিয়ে শুনতাম বা হু হা করতাম, এখন বয়সের জন্যই কীনা জানিনা। এইসব বাল ও ছালের আলাপ শুনতে আর ভালো লাগে না!
ভাইরে, আপনি থাকেন আপনার পশ্চিমা দেশের ঘি মাখন জ্যাম জেলি নিয়ে ! এই বাংলাদেশের জন্য কে কী ছিঁড়ছেন আমরা তো কম বেশী জানি। কেন খামোখা গুচ্ছের সময় নষ্ট করে আমাদের অপরাধ বোধে ভোগাতে চান? দেশের এই অবস্থা আমরা কি একা করেছি ?
প্রকাশকালঃ মার্চ, ২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য