by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
অভিজ্ঞতাটা আমার অগ্রজের।
বাড়ির পাশে বাজারে ছোট চাচার এক বন্ধুর কসমেটিকসের দোকান ছিল। আমি ও ভাইয়া দুজনেই স্কুলে পড়ি।মাঝে সাঁঝে ছোটখাটো কিছু একটা, এই যেমন শীতের দিনের ভেসলিন বা ভ্যানিসিং ক্রিম কিনতে আম্মা দোকানে পাঠান। দোকানের মালিক হ্যান্ডসাম যুবক ; সারাক্ষণ কিশোরী তরুণীদের ভিড় লেগে থাকে। তবে মহিলা ক্রেতারা যে দাম নিয়ে বড্ড দরকষাকষি করে সেটা ওখানে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যেত। হয়তো, ১ টাকা ডজনের কালো হেয়ার ক্লিপ যেটা এমনিতেই সস্তা ; সেটার দাম কমানোর জন্যও এরা এক ঘণ্টা পার করত!
তো ভাইয়া কী যেন একটা কিনতে গেছে , সেটার কথা বলে অপেক্ষা করছে। আগে থেকেই দুইজন তরুণী দোকানের অর্ধেক কসমেটিকস নামিয়ে সামনের ডিসপ্লের উপর স্তূপ করে রেখেছে। অবশেষে দুটি পণ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দামাদামি আগেই কিছুটা হয়েছিল। ফাইনালি চাচা খুব দ্রুত লয়ে বললেন, আপনাদের কাছে কি আর দাম রাখব আপা ! এটা সাত আর এটা পাঁচ,মোট পনের টাকা ; আপনি তের টাকা দিয়েন। মহিলা ভীষণ খুশী হয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১৩ টাকা বের করে দিয়ে চলে গেলেন।
ভাইয়া আর সেই চাচার বাকী কথোপকথন কি হয়েছিল জানি না। তবে এই ধরণের কাহিনী যে হয় সেটা বুঝলাম , যেদিন থেকে আমি বউয়ের সঙ্গে বাজার করা শুরু করলাম !
প্রকাশকালঃ ১১ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 25, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
আমার শৈশব কেটেছে অবাঙ্গালি-বিহারী অধ্যুষিত মিরপুর ১১ নাম্বারের সোসাইটি ক্যাম্পের ঠিক সামনে। আমাদের গলির মাথায় আনিসের মনোহারি মুদি দোকান ছিল। পুরো মহল্লার বাঙালী সমাজের একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল আনিসের দোকান। মেহমান এসেছে হুট করে , যা তো আনিসের দোকানে ! আব্বার মাস শেষে টাকা পয়সার ঘাটতি, আনিসই ভরসা।
কিছুদিন পরে মহল্লায় বড় মাপের কনফেকশনারী দোকান চলে আসল। ফ্রিজ আসল, সেই ফ্রিজে ঠাণ্ডা কোক-ফান্টা পাওয়া যেতে লাগল। আর অধুনা প্রতিটি মহল্লা আর রাস্তায় বড়বড় সুপার স্টোর এসে তো ঢাকাকেই ঢেকে ফেলেছে ! আনিসের দোকানের মতো ছোট পুঁজির, নিম্নমধ্যবিত্তের নগদ-বাকীর ভরসাস্থল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দোকানগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ওর দোকানে কাঁচামরিচ, মাছ-মাংস ছাড়া- হেন জিনিষ নেই পাওয়া যেত না ! শুকনো বাজারের পুরোটাই ( চাল,ডাল,আলু,পিঁয়াজ,তেল-লবণ,ডিম, চিনি,গরমমসলা, ইত্যাদি) থাকত ওর কাছে।
দশ ফিট বাই দশ ফিট দোকানে এতো বিশাল ব্যাপ্তির প্রোডাক্ট রেঞ্জ সে কীভাবে গুছিয়ে রাখত , এবং চাহিবামাত্র সে কোন এক চিপার ভিতর থেকে গ্রাহকের চাহিদামত ইসবগুলের ভুষি বা রান্নার পাঁচফোড়ন বের করে দিত– সেটা আমার কাছে সেই সময়ে বিস্ময় ছিল, এখনো আছে !
একটা ব্যাপার নিয়ে আমি প্রায়শ: বিরক্ত হতাম। বাকীতে নিই বা নগদে, আমি ছিলাম আনিসের বড় খরিদ্দারদের একজন। কোন বারই ৫০ বা ১০০ টাকার নীচে সদাই-পাতি করতাম না। অথচ দেখা যেত, আমাকে রেখে অবাঙ্গালী বিহারী খরিদ্দারকে সে আগে সার্ভিস দিচ্ছে। দেখা গেল কোন ছোট বিহারী বাচ্চা এসে আট আনা বা এক টাকার কিছু কিনছে, তাকে সে আগে বিদায় করত। একদিন আনিসকে জিজ্ঞাস করলাম। ‘মামা, কাহিনী কি এইটা তো ঠিক না। আমি আগে আসছি। আমার সদাই-পাতি বেশী , আমাকে আগে বিদায় কর!’ কেন সে ওঁদেরকে আগে সার্ভিস দেয় সেটা একদিন সে আমাকে হাতেকলমে দেখিয়ে দিল।
হয়েছে কী , একদিন আমি আনিসকে বাজারে ফর্দ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। একটা একটা করে ওজন করছে আনিস। ঠিক সেই সময় এক পিচ্চি বিহারী এসে, এক টাকার নোট খুব মুডের সাথে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘ অ্যা মোদী, এক রুপাইয়াকে মুরালি দে !’ আনিস আমার মাল-পত্র গোছাচ্ছিল। এর ফাঁকেই কয়েক সেকেন্ডের মাথায় বেশ উত্তপ্ত গলায় ,’ এ মোদী ! কাব তাক খাড়া রাহুঙ্গা,এক রুপাইয়া কি মুরালি কে লিয়ে? ’ আনিস আমার জিনিসপত্র রেখে তাড়াহুড়ো করে ঐ পিচ্চিকে এক টাকার মুরালি কাগজে মুড়িয়ে বিদায় দিল।
আমার দিকে চেয়ে একটু হেসে বলল, ‘ মামা, আপনি আমার বড় গাহাক, আপনার সদাই-পাতি অনেক। আপনি জানেন, আপনার সময় লাগবে ; আপনি সেইটা বুইঝাই অপেক্ষা করবেন, তাড়াহুড়া করবেন না ! কিন্তু এই হালার খুচরা গাহাকগুলা–কিনব আটআনার জিনিষ, কিন্ত গরম দ্যাখলে মনে হইব লাখ টাকার সদাই করতে আইছে!’
ইদানীং নানা বিদেশী ক্রেতাদের মধ্যে বড়বড় ক্রেতাদের যথেষ্ট আস্থা আছে বাংলাদেশের উপরে। যেহেতু তারা তাঁদের সোর্সিং-এর বড় একটা অংশ চীন থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে বছর বিশেক হল; বাংলাদেশের যে কোন পরিস্থিতিতে এঁদের মাথা ঠাণ্ডা থাকে। অপেক্ষা করে অবস্থার উন্নতির জন্য । চিৎকার চেঁচামেচি মাথা গরম করে, খুচরা ক্রেতারা। দেড় টাকার টি-শার্ট কিনবে , তাও ১৫০০ পিসের MOQ( Minimum Order Quantity) – কিন্তু কমপ্লাইন্সের গরম আর নানাবিধ চাহিদার বহর দেখলে আমার সেই বিহারী পিচ্চির কথাই মনে পড়ে !
অনুসিদ্ধান্ত: ক্রেতার চাহিদা ও মেজাজ তাঁর ক্রয় ক্ষমতার ব্যস্তানুপাতিক। যতো ছোট
ক্রেতা-ততো বেশী মেজাজ !
[ প্রকাশকালঃ ৭ই অক্টোবর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 25, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি, সাম্প্রতিক
গার্মেন্টস নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও মালিকপক্ষের বিচ্ছিন্ন মন্তব্য ও মতামতের সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরছি। আমি এইখানে কোন পক্ষ অবলম্বন করছি না। আমি চাই, গার্মেন্টস ট্রেড থাকুক, প্রফেশনাল মালিক , শ্রমিক ও কর্মচারীরা কাজ করুক। কতিপয় অর্থগৃধ্নু মালিকের ও ক্রেতার জন্য সবাইকে দোষারোপের চলতি হাওয়া থেকে বের হয়ে আসুক মিডিয়া। যে কয় ডলারের ব্যবসাই করেন না কেন, ভালো পরিবেশে উন্নত শ্রমিকবান্ধব কারখানায় করেন।
ভাইরে, আমার আকাংখা দিয়ে তো আর বাংলাদেশ চলে না, তাই অন্যদের কিছু মন্তব্য শুনিঃ
ক্রেতাদের কিছু মন্তব্যঃ
১। বাংলাদেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ লোকের মতামত– আমারাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সস্তা শ্রমের দেশ । আমরা অপরিহার্য, চীনে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আমরা ছাড়া পশ্চিমা ক্রেতাদের যাওয়ার কোন জায়গা নাই। ক্রেতাদের কথা –কিন্তু, একটা কথা সবাই ভুলে যাচ্ছো, পৃথিবীর মোট বস্ত্রচাহিদার ৪ থেকে ৫ শতাংশ মাত্র বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ২১/২২ বিলিয়ন ডলারের বাজার।
কথা সত্য , একক দেশ হিসাবে তোমরা চীনের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম। কিন্তু , ঐ যে বলেনা, বিশাল ব্যবধানে দ্বিতীয়, তোমরা তাই।
তো, কিছু বড়ো ক্রেতার অবস্থান অনেকটা এইরকম, ‘ বাংলাদেশ নিজেরে অপরিহার্য ভাইবো না। আমরা যদি ৯৫% বস্ত্র অন্য দেশ থেকে সোর্সিং করতে পারি। তোমাদের ৫% অন্য কোথাও থেকে ঠিকই আমরা ম্যানেজ করে নিব।’
ডাটা স্ট্যাটিস্টিক্স দিয়ে পোস্ট ভারি করবো না, কেউ উৎসাহী হলে, গুগলে যাইয়া দেখেন।
২। প্রতি পিস টি-শার্টে তোমাগো আরো দশ সেন্ট দিলে নাকি তোমরা শ্রমিক কল্যানের সব কিছু কইর্যা ফালাইব্যা । তোমাদের মতো দুর্নীতিবাজ জাতির পক্ষ থেকে কে গ্যারান্টি দেবে যে, ঐ অতিরিক্ত ১০ সেন্ট শ্রমিকের কল্যানেই লাগাইবা, নাকি হুদা মিছা মালিক ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের লাভের পরিমাণ খামোখা বাড়াইবা। শ্রমিক যেইখানে ছিল সেইখানেই থাকবে।
৩। যেকোন বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশেই বছর তিরিশেক পরে শ্রমঘন ভারী বা লোটেক শিল্প থেকে হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে গেছে। তোমাগো অবস্থা যা, তোমরা আরো তিরিশ বছরেও হাইটেকে যাইতে পারবা না ! তাইওয়ান, কোরিয়া, চায়না, শ্রীলংকা , মেক্সিকো যে দেশেই এই গার্মেন্টস শিল্প ছিল তারা তাঁদের প্রথম ৩০ বছর পরে কোথায় আর তোমরা কোথায় !
৪।মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ক্রেতা হিসাবে আমি আমার সর্বোচ্চ গুণগতমান সর্বনিম্ন খরচে চাইব। তোমার এখানে না পেলে অন্য জায়গায় যাবো। এখন তোমার দ্বায়িত্বই বেশী নিজস্ব ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কমপ্লায়েন্স করার জন্য তোমাদেরকেই ঠিক করতে হবে কীভাবে শ্রমবান্ধব পরিবেশে গার্মেন্টস উৎপাদন করবা।
আমার নিজের কথা, নতুন পে স্কেলে শ্রমিকের বেতন ৫০% বাড়লেও আমি মনে করি, তারপরেও বাংলাদেশ গ্লোবাল মার্কেটে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে।
মালিকপক্ষের বিচ্ছিন্ন কিছুকথা:
১।ভাই, গত তিরিশ বছরে সড়ক ও লঞ্চ দুর্ঘটনায় কতোজন মারা গেছে আর এতোবড় একটা গার্মেন্টস শিল্পে কতজন মারা গেছে, একটু কাইন্ডলি কম্পেয়ার করেন। একতরফা একটা দুইটা দুর্ঘটনা দিয়ে পুরো ট্রেডটারে কালপ্রিট বানাইয়েন না।
২।গাঁটের টাকা খরচ করে, বউয়ের গহনা বিক্রি করে, বাড়ি জমি বন্ধক রেখে ১৮ থেকে ২০% ব্যাংক ইন্টারেস্টে ব্যবসা করতে আসছেন। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কথা যদি বলেন– ব্যবসার অন্যতম উদ্দেশ্যতো মুনাফা , নাকি ? ব্যবসায় যদি মুনাফা না থাকে শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বলেন, তাইলে আপনারাই ব্যবসায় নামেন। সামাজিকতা করেন , চ্যারিটি করেন। বছর শেষে ব্যাংক লোন শোধ করতে হবে , মুনাফা করতে হবে আবার অদক্ষ শ্রমিকের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিতে হবে। ভালো , ভালো না !
৩।গ্রামের একটা অশিক্ষিত, বা স্বল্প শিক্ষিত শ্রমিক কোন প্রাথমিক ট্রেনিং ছাড়া এসে বসে যে পারিশ্রমিক পাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্য কোন সেক্টরে মনে করেন, চিংড়ী ঘেরে, কৃষিকাজে, দিনমজুরী করে, ঘরামী করে, যদি এর চেয়ে বেশী পাইতো, তাইলে কি তারা গার্মেন্টসে কাজ করতে আসতো ? সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছে বলেইতো তারা এই সেক্টরে !
আবার ডিমান্ড সাপ্লাই চেইন মেনে, শ্রমিকের প্রতুলতা ও অপ্রতুলতাই তাঁদের মজুরী কতো হবে ঠিক করে। আমরাতো শিকল দিয়ে বাইন্ধা রাখি নাই, পোপের মতো কথা বললেতো হবে না। ৫শ টাকা বেশী পাইলে, মালিকের কোন হ্যাডাটা ঠিক রাখতেছে শ্রমিকেরা। ঠিকইতো অন্য আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে।
দক্ষতার কথা বলেন, চীনা একটা শ্রমিক যে দক্ষতা নিয়ে কাজ করে , তার ৩০% দক্ষতাও আমাদের বেশীরভাগ শ্রমিকের নাই। ওদের বেতন বেশী হবে নাতো কী আমাদের রোকেয়া কুলসুমের বেতন বেশী হবে !
৪। সরকার , মিডিয়া সবাই বাংলাদেশের আর কোন শ্রমিকদের জন্য বছরে বছরে আপনারা বেতন বাড়াচ্ছেন বা বেতন বাড়ানোর জন্য প্রেসার দিচ্ছেন ? অন্যরা কী কি দোষ করছে। বৈষম্যতো আপনারাও করছেন। এখন গার্মেন্টসের শ্রমিকের বেতন ৮০০০ টাকা দিলে অন্য সব সরকারী বেসরকারী শ্রমিকেরা কী দোষ করলো। অন্য সব সেক্টরের শ্রমিকের বেতনও বাড়াতে হবে।
শ্রমিকের বেতন ৫০% বাড়াইলেন। সঙ্গে সঙ্গে কী হবে জানেন। বাড়ীভাড়া বাড়বে, খাদ্যের দাম বাড়বে, বাসভাড়া বাড়বে , বেকারীর দাম বাড়বে, ডিমের দাম বাড়বে। বাড়তি টাকার পুরোটাই অন্যের পকেটে যাবে। মুদ্রাস্ফীতির দায় শুধু মালিকদের উপর চাপাচ্ছেন কেনো?
সুশীল সমাজের একজন বললেন, তিরিশ বছরে গার্মেন্টস মালিকেরা সরকারকে কি দিয়েছেন। ২৫% ইনসেন্টিভ নিছেন। সারাক্ষণ গ্যাস বিদ্যুৎ নিয়ে চাপাচাপি করছেন। ট্যাক্স দিছেন কতো? কিছু কইলেই, কর্মসংস্থানের দোহাই দিয়ে আরো সহযোগিতা করতে বলেছেন। যে পরিমাণ ট্যাক্স ফাঁকি দিছেন, ওইটা দিয়া আরো হাজার খানেক ইপিজেড তৈরী করা যাইতো। কর্মচারী আমরা যারা, কয়জন ঠিকমতো ট্যাক্স দিই। বছরের মে-জুন মাস থেকে দৌড়াদৌড়ি ক্যামনে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া যায়।
তবে, উপরের সবকটা মন্তব্যেই আমার পরিচিত কোন না কোন ক্রেতা বা মালিক করছেন।আমি মনে করি , শ্রমিক, মালিক,ক্রেতা , সরকার ও বিরোধীদলের একটা সমন্বিত প্রক্রিয়া দরকার। সমন্ব্যহীনভাবে একেক জন একেকভাবে কি কি করতে চাচ্ছেন, বোঝা মুশকিল।উল্লেখ্য, শ্রমিক পক্ষের কারো সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয় নাই, কিন্তু টিভি মিডিয়াতে তাঁদের দাবী দাওয়া অত্যন্ত স্পষ্ট। সেইটা আমরা কমবেশী সবাই জানি।
by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
বছর আটেক আগে এক বন্ধুস্থানীয় বিদেশী ক্রেতার কাছে শেখা!
এই বন্ধুটি প্রায়ই এই কথাটি বলতেন , ‘ You are only as good as your last shipment !’ আমাদের সেক্টরে শিপমেন্ট হলে, অন্য শিল্পে সেটা last deal/ last sale/last performance- হতে পারে।
প্রায়শ: আমাদের কিছু লোকের খামখেয়ালী , অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে কিছু শিপমেন্টের এমন লেজেগোবরে অবস্থা হয় যে ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে চলে যায় ! একটা বিশ্বস্ত ভালো ক্রেতা এই যুগে পাওয়া ও তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক ধরে রাখা যে কতোখানি দুঃসাধ্য কাজ , সেটা যারা মার্কেটিং ও সেলস-এ আছেন তাঁরা বোঝেন।
স্বভাবতই দায়ী ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন বা মালিককে মনে করিয়ে দেন তার গত বছরগুলোর অতীত সাফল্যের কথা। ইদানীং বাংলাদেশের কর্পোরেট কালচার অনেকখানি নির্দয় আর সংখ্যাভিত্তিক হয়ে গেছে। সুতরাং অতীতকীর্তির কথা বলে দায় এড়ানো যাচ্ছে না।
যদিও আমাদের উপমহাদেশীয় সংস্কৃতি ‘Hire & Fire’ নীতির বিরোধী। সে তুলনায় পশ্চিমারা নিতান্তই আবেগহীন। এঁদের সঙ্গে সাথে চলতে গিয়ে বোঝা যায় , উপরের কথাটা তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মালিককে তখন দায়ী কর্মচারীকে ‘অবস্থান বদলের’ উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে হয়, ‘আপনি যদি সোর্সিং অফিস হন– আপনি কারখানার মূল্যায়ন করবেন সদ্যশেষ হওয়া সিজনের শেষ শিপমেন্ট গুলো সেই কারখানা ঠিকমতো দিয়েছে কীনা তা দিয়ে। আবার আপনি যখন কারখানা , তখন আপনার সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানা বা কাপড়, অ্যাকসেসরিজ সরবরাহকারী শেষ সরবরাহ ঠিকমতো করেছে কীনা।
ঠিক একইভাবে পশ্চিমা ক্রেতাকে সারাবছর আপনি ঠিকঠাক সময় মতো সরবরাহ করে আসলেন ; আর বছর শেষে ক্রিসমাসের সময় করলেন গুবলেট ; অতঃপর লেট-শিপমেন্ট, , ডিসকাউন্ট, এয়ার-শিপমেন্ট করে সম্পর্কের অবনতি।
নতুন বছরে তার কাছে আবার অর্ডার চাইলে , সে আপনাকে আপনার শেষ শিপমেন্টের ব্যর্থতার সূত্র ধরেই আলোচনা শুরু করবেন। আপনি উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন, ‘এইটা একটা থ্যাংকসলেস জব , ইত্যাদি ইত্যাদি।’ আপনি দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।কিন্তু দিনশেষে আপনার মূল ক্রেতা যে ধরণের মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করছে , তার প্রভাব চেইন রিঅ্যাকশনের মতো আপনার উপরে পড়বেই !
আমি যেহেতু আশাবাদী, এইবার এই নির্দয় নীতির আশাবাদের জায়গাটা বলি। পুরো ব্যাপারটিকে পজিটিভলি নিলে কী হয় ! যেহেতু, শেষ শিপমেন্ট দিয়ে ক্রেতা আপনাকে বিবেচনা করছেন। যতো খারাপ পারফর্মেন্সই করেন না কেন,পরের বছর ধারাবাহিকতার অজুহাতে হলেও হাতে-পায়ে ধরে আবার কিছু অর্ডার নেন। ঠিকমতো পারফর্ম করলে সে আপনার গতবছরের বাজে শিপমেন্টের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাবে আশা করা যায় !
[ প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর,২০১৬ ]
সাম্প্রতিক মন্তব্য