by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
বড্ডো বিরক্তি নিয়ে বলছি, বাচ্চাদের জন্য সীমিত আকারে হলেও স্কুলগুলো খুলে দেওয়া উচিৎ। এযাবৎ কালের বিগ ডেটা যা বলে, বাচ্চাদের শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো বয়স্কদের তুলনায় অনেক সজীব ও সুস্থ। কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ও প্রাণহানির সম্ভাবনা তাঁদের অত্যল্প বা নেই বললে চলে।
আর বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা এমনিতেই তেমন পড়াশোনা করে না। আমাদের সময়ের অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি এবং এখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের যা দেখছি সেটা হচ্ছে — নানা বর্ষের ধূসর হাতে লেখা নোটের ফটোকপি যাকে কথ্য বাংলায় ‘চোথা’ বলে ; সেগুলো পড়ে একেক সেমিস্টার পাশ করছে। অধুনা, এসেছে ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ; এক সেমিস্টারে কোন সাবজেক্টে ৭/৮ টা পাওয়ার পয়েন্ট থাকলেই অ্যাভারেজে যে কেউ পাশ করে যাচ্ছে। যেখানে সমগ্র পৃথিবীতে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান উৎপন্ন করে ,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেখানে জ্ঞান দান করে। জ্ঞান উৎপন্ন করতে যে পরিমাণ রিসার্চ, লাইব্রেরি ওয়ার্ক ; ল্যাবরেটরি, থিসিস অথবা জার্নাল পাবলিকেশন দরকার তাঁর সক্ষমতা আমাদের জানা আছে। এবং অদূর ভবিষ্যতেও বিশ্বের প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের দৌড়ে আমাদের কোন পাবলিক অথবা প্রাইভেট যে পৌঁছুতে পারবে না, সেটা বলার জন্য জ্যোতিষী হতে হয় না।
আমারা যারা এখন অভিভাবক হয়েছি ( বাংলাদেশের স্বাধীনতার যৎসামান্য পূর্বে ও পরবর্তীতে যাঁদের জন্ম)। তাঁরা ইন্টারনেটের জন্ম হতে দেখেছি। স্মার্ট ফোন থেকে শুরু করে নানা ধরণের ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, ভিডিও গেম সব আমাদের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে বেড়ে উঠেছে। ভার্চুয়াল জগতের ভালো দিকের সঙ্গে সঙ্গে মন্দ-দিকগুলো আমাদের চেয়ে ভালো বোধকরি আর কোন প্রজন্ম জানে না। আমাদের প্রজন্ম চেয়েছিলাম আমাদের সন্তানদের আধুনিক গেজেটগুলো থেকে যতোখানি পারা যায় , নিরাপদ দূরত্বে রাখতে। সে আর হল কোথায় ?
আমাদের সন্তানেরা যেন –ছাপানো বই, হাতে লেখা পরীক্ষার খাতা আর ক্লাসে একসঙ্গে শিক্ষক/শিক্ষিকার সামনে বসে ব্ল্যাক বোর্ডের লেখালেখি আর কথা শুনে ক্লাস টেন অবধি পড়াশোনা করতে পারে –সেটাই ছিল আকাঙ্ক্ষা । এরপর কলেজে উঠে গেলে যুগের হাওয়ায় ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম , জুম, ইউ টিউব, অ্যানিমে কার্টুনের সঙ্গে পরিচয় হবেই –কেউ ইচ্ছে করলেও সেটা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
কিন্তু করোনাকালে, আমাদের ( পড়ুন সকল স্কুলগামী শিশুদের অভিভাবকদের ) প্রতিরক্ষার দেয়ালগুলো ধ্বসে পড়েছে ; ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অনলাইন ক্লাস চলাকালে কয়জন জননীর পক্ষে সম্ভব বাসার কাজ করেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুর পাশে বসে থাকা। ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোন কোন বাচ্চা আলাদা ট্যাব খুলে কার্টুন-রে, অ্যানিমি-রে , ইউটিউব-রে মায় প্রাইভেট চ্যাটিং করা শুরু করে দিয়েছে। যেই শিক্ষক/শিক্ষিকা ক্লাসে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সশরীরে উপস্থিত থেকে ম্যানেজ করতে পারেন না, তিনি কি করে পারবেন অনলাইনে কোন বাচ্চা কী করছে সেটা ম্যানেজ করতে?
গার্মেন্টসে করোনা ভাইরাস থেকেও নেই সেই মার্চ থেকে।
গণ-পরিবহনে করোনা নেই, জুলাই থেকে।
পিকনিক স্পটে আর সমস্ত রিসোর্টে করোনা নেই আগস্ট থেকে।
সরকারি জরুরি বিভাগগুলো ( হাসপাতাল, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ইত্যাদি) তে করোনা ভাইরাস নেই প্রথম দিন থেকেই। বেসরকারি ব্যাংকে নেই প্রথম থেকে।
আমাদের কর্পোরেট অফিসে করোনা নেই এপ্রিল-মে থেকে।
তাহলে করোনা ভাইরাস আছে কোথায়? একমাত্র শিক্ষায়াতন গুলোতে?
আচ্ছা, ইউনিভার্সিটি বন্ধ রাখা হোক আরো এক বছর কিংবা আরো দুইবছর ।
আমার মামা (DrMd Sarowar Hossain ) যিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয় না খোলার পিছনে তাঁর যুক্তি দেখিয়েছিলেন করোনার শুরুর দিকেই। তিনি বলেছিলেন–১০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা করোনায় আইসিইউ তে মারা গেলে সারাদেশে কোন হৈচৈ হবে না। কিন্তু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যদি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার সামান্য অবহেলাও পায়, তবে সারাদেশে আগুন জ্বালিয়ে দেবে ছাত্ররা । বরং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ আছে বন্ধই থাকুক। অকাট্য যুক্তি। আমাদের ছাত্র সমাজের আন্দোলনের হেতু লাগে না, কিছু একটা হলেই তাঁরা জ্বলে ওঠে। সরকারের গদি নড়িয়ে দেয়। আর অথর্ব বিরোধীদলগুলো আলুপোড়া খেতে চায়।
অতএব বিশ্ববিদ্যালয় আরো বছর খানেক বন্ধ থাকুক। সরকার শান্তিতে সময় পার করুক। কিন্তু স্কুলগুলো খুলে দেন জনাব। আমরা– বাসা থেকে অনলাইন ক্লাস করা সন্তানদের অভিভাবকেরা আর পেরে উঠছি না।
পাঠ করার জন্য অগ্রিম শুকরিয়া ও ধন্যবাদ।
প্রকাশকালঃ ১৭ই নভেম্বর,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
জুনের প্রথম থেকেই বাংলাদেশের প্রায় সকলেই করোনা আতঙ্ক থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। সচ্ছল জনগণের বাসায় কোয়ারিন্টিন থেকে হাতি-ঘোড়া মারার নানা উপায় থাকলেও দেশের বৃহত্তম অংশ জীবিকার তাগিদেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে মরিয়া। সরকারের নানারকম প্রজ্ঞাপন ও সাবধানবানী কেউ আমলে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। একমাত্র আন্তর্জাতিক সীমানাগুলো ও বিমান চলাচল সীমিত পরিসরে আছে। অফিস, রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন, ট্র্যাফিক জ্যাম সেই আগের মতো। সংক্রমণ বেড়েই চলছে , আইসিইউ-গুলো সব পূর্ণ ; মৃত্যু থেমে নাই।
বাংলাদেশের গড় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদেশগুলোর চেয়ে বেশি সেটা প্রমাণিত হয়েছে। গরমে ভাইরাস বাঁচে না অথবা দুর্বল প্রজাতির ভাইরাস এসেছে এই ধরণের বালখিল্য কথা যুক্তিতে টেকেনি।
আবার সব দুর্যোগে সরকারী তথ্যের উপর অনিবার্য অবিশ্বাসের মতো করোনায় মৃত্যুহার নিয়েও অনেকে আশাহত। ভেবেছিলেন এই ঘনবসতির দেশে গলিতে-গলিতে, রাস্তায়-রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে থাকবে ; দাফন সৎকার করার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেটি যে হয়নি, সে আমাদের পরম সৌভাগ্য। আমাদের জনমানুষের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই এযাত্রা বাঁচিয়ে দিল আমাদের।
গত মে মাসে, প্রবাসী এক ডাক্তার বন্ধুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল । সে বলছিল, পশ্চিমে একজন কোভিড আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা ও মৃত্যু যথেষ্ট মানবিক ও গবেষণার ব্যাপার। তাই, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সৎকার করার প্রশ্নই আসে না। মৃত্যুসংখ্যা বেশি হলে সৎকারের আগে মর্গে মৃতদেহ দিনকয়েক পড়ে থাকাটা স্বাভাবিক। আর আমাদের বাংলাদেশে সকালবেলায় কারো মৃত্যু হলে, যোহরের নামাজে তার জানাজা হয় আর দুপুরে মারা গেলে আসর অথবা বড়জোর এশার ওয়াক্তে তার দাফন হয়ে যায়। । মুর্দাকে কতো তাড়াতাড়ি দাফন করা যাবে সেটা নিয়ে আত্মীয়স্বজনেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সামাজিকতায় মৃতদেহ কীভাবে রাস্তায় বা মহল্লায় পড়ে থাকবে? সেই সুযোগ নেই আমাদের দেশে।
বন্ধুর আরেকটি মত ছিল, আমাদের গ্রাম মফঃস্বলে সকলেই কায়িক পরিশ্রমী। এঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ; চারদেয়ালে বন্দী সচ্ছল জনগণের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা যারা বাসায় পানি ফুটিয়ে খাই, তরিতরকারি ধুয়ে খাই, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকি, গাড়িতে চড়ি , তাদের ইমিউনিটি প্রান্তিক জনগণের চেয়ে কম। উদাহরণ দিয়ে বলল যে , আমাদের বয়সী বন্ধুদের কয়েকজন যদি পথচলতি রাস্তার ড্রেনের পাশের ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে চটপটি খায়, তবে কী হতে পারে। দুয়েকজন যে অতিঅবশ্যই পেটের পীড়ায় ভুগবে সে দিব্যি করে বলা যায়। কিন্তু এই ঢাকারই বস্তিবাসী যারা বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর, অপরিচ্ছন্ন, গাদাগাদি জীবনযাপনে অভ্যস্ত একই খাদ্যাভ্যাসে তাদের কি কিছু হবে ? মনে হয়, হবে না। তো সেই বন্ধু রসিকতা করে বলল, তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় এদের অধিকাংশের দেহে দুই রকমের ডায়রিয়া আর তিন রকমের কলেরার ব্যাকটেরিয়া এমনিতেই পাওয়া যাবে। এন্তার সিজনাল ভাইরাস তো থাকবেই। কোভিড-১৯ ভাইরাস এদের কাবু করতে পারবে না। ওঁর মতের সঙ্গে এই আগস্টে এসে একমত পোষণ করতেই হচ্ছে। অবশ্যই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকে মারা গেছেন, সেটা প্রত্যন্ত জেলা শহর থেকে ঢাকার মিডিয়াতে এসে পৌঁছায়নি ; তবে সংখ্যায় সেটা আশাতীত রকমের কম।
ছোটমামার সঙ্গে দেখা হয় না বহুদিন। ফোনে সেদিন বলছিলেন , করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলেও মনে হচ্ছে আতঙ্কটা আর নেই রে ! অবাধ চলাফেরা, মেলামেশা করা পাবলিকের ভাবখানা হচ্ছে, ও আচ্ছা, মৃত্যুই তো !
আমার মনে হয়, করোনার ব্যাপারটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকে তীব্র আতঙ্ক থাকে। কিছুদিন পরে সবাই বোমা, মৃত্যু, হাসপাতালে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যুদ্ধের ভিতরেই একসময় সোমত্ত ছেলেমেয়েদের বিয়েশাদি হয়, সন্তানাদি হয়। যুদ্ধকালীন মানবিক সঙ্কটকে স্বাভাবিক মনে করা শুরু করে। দিনশেষে বাসায় রেডিও টিভিতে হতাহতের কথা শুনে একটু আতঙ্কিত হয়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে, আবার বেমালুম ভুলে যায়।
করোনায় পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে, তবে বিমান ও পর্যটন খাতের অবস্থা একেবারে কেরোসিন মনে হচ্ছিল। ইদানীং গত রোজার ঈদেও অনেকে এদিক সেদিক সামাজিক দূরত্ব রেখে ঘোরাফেরা করতে দেখেছি।
বন্দিজীবনে তিক্ত হয়ে যাওয়া বাচ্চাগুলোকে একটু খোলা বাতাসে নিয়ে গেলাম গত পরশু। ঢাকার পাশেই একটা রিসোর্টে। ঢাকার সীমানা অতিক্রম করার পরে, মনে হোল না যে দেশে করোনা আতঙ্ক আছে। অর্ধেক লোকের মুখেই মাস্ক নেই। গতমাসে অনেককে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ঘুরতে যেতে দেখেছি আর বাড়ি এসে কোভিড আক্রান্ত হয়ে কোঁকাতেও দেখেছি। যাদের নির্বোধ ব্যাকুলতা নিয়ে হাসি তামাশা করেছি, নিজেরাই সেই কাজ করে এলাম। তাই, সেটা লুকানোর কিছু দেখি না।
প্রকাশকালঃ ৯ই আগস্ট,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
সকালে ছোট কন্যার Zoom ক্লাসে কিছুক্ষণ বসেছিলাম।
ওর শিক্ষিকার জন্য বড্ডো মায়া হল। বেচারি !
১৪টা বাচ্চাকে সশরীরে ম্যানেজ করা যতোখানি না কষ্টের; তারচেয়েও বেশি ঝক্কির হচ্ছে কম্পিউটারে দূর-শিক্ষণে এদের নিয়ন্ত্রণ করা । একজন চেঁচিয়ে স্ক্রিনের লেখা পড়ছে, আরেকজন গুনগুন করছে। আরেকজন ‘মিস্ , মিস্, মিস্, মিস্ ’ বলে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে ক্রমাগত। রীতিমত হাটবাজার আর কী !
আমার এক খালাম্মা স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন সেই আশির দশকে।
সেই সময়ে একেক ক্লাসে ন্যুনতম ৬০ থেকে শুরু করে প্রায়ই ৮০ জন ছাত্রছাত্রী থাকত।
আমরা দূর থেকে দেখতাম, খালাম্মা ক্লাসের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত দৌড়ে বেড়াচ্ছেন হাতে কাঠের স্কেল। ছোট ছোট বাচ্চাদের কিচিরমিচির । খালাম্মা কোনদিন শারীরিক প্রহার করতেন না, তবে দুষ্টুমি করলে , বেঞ্চের উপর দাঁড় করিয়ে রাখতেন। বাচ্চাগুলো বেঞ্চে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই গা গা গি গি করত।
খালাম্মা একদিন আম্মাকে আফসোস করে বলছিলেন, ‘ বাপমায়ের আর কী ! এরা তো বছর বছর পুক্ পুক্ করে বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর , এগুলোকে মানুষ করতে যতো যন্ত্রণা আমাদের !’ আমি তখন কিছুটা সাবালক, তাঁর সেই ‘ পুক্ পুক্ ’ শব্দচয়ন আমার কানে বিঁধেছিল । তাঁর বেদনা সেই সময়েই টের পেয়েছিলাম। আজ এই ত্রিশ বছর পরে যেমনটি টের পেলাম ছোটকন্যার শিক্ষিকার বেদনা।
সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য আমার শুভকামনা।
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
সপ্তাহ দুয়েক ধরে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে ।
অনেকেই বলছেন, তাঁদের একটু জ্বরজ্বর ছিল বা ক্লান্তি ছিল, শরীর ম্যাজম্যাজে ছিল । এবং সবাই ওরস্যালাইনের মুখস্থ রেসিপির মতো বহুল প্রচলিত মশলা পানির ভাপ নিয়েছেন। এখন সুস্থ বোধ করছেন। তাদের ধারনা তাদের মাইল্ড কোভিড-19 ভাইরাস অ্যাটাক হয়েছিল। খুব অল্পের উপর দিয়ে শরীরে অ্যান্টিবডি হয়ে গেছে।
আমি তাদের এই অপরীক্ষিত আত্মবিশ্বাসের পক্ষেই আছি।
বহুবছর আগে ‘দি টার্মিনাল’ সিনেমাতে ক্যাথরিন জেটা জোন্স টম হ্যাঙ্কসকে বলে, সম্রাট নেপোলিয়ন নির্বাসনে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ছয়গুণ বেশি মাত্রার বিষ গ্রহণ করতেন বা তাকে খাবারে মিশিয়ে দেওয়া হতো। উদ্দেশ্য তাঁর দ্রুত মৃত্যু । কিন্তু নেপোলিয়ন ছিলেন অহংকারী লোক। তাঁর বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পৃথিবীর কোন বিষ তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না। এই অতিমানবিক আত্মবিশ্বাস নাকি নেপোলিয়নকে বহুবছর সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিল !
ভুল করে হলেও নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যাপারটা হয়তো ভাল।
তবে কোভিড-19 ভাইরাসে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলছেন বৈজ্ঞানিকেরা। সেই ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অ্যান্টিবডি আপনার থাকলেও সবরকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিৎ।
কেননা , দিন শেষে আমি,আপনি কেউই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট না !
প্রকাশকালঃ ১লা জুলাই,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
প্রায় সগোত্রীয় বলে নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের প্রতি আমার কিছুটা পক্ষপাতিত্ব থাকা স্বাভাবিক।
নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর করোনায় অধিকতর বিত্তহীনতা অসহায় করবে জানি। এঁদেরকে আরো মানবেতর জীবনের দিকে ঠেলে দেবে। রাষ্ট্র তাঁদের কল্যাণের জন্য যতোখানি করতে চাইছে, সেটা দুর্নীতির ছাঁকনি পেরিয়ে কতোটুকুই বা তাঁদের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।
ইতিহাস ও সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তি থেকে দেখা যায় দারিদ্র্যের হেরফেরে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানিয়ে চলার সক্ষমতা রাখে।
কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ও সচ্ছলদের অস্বচ্ছলতার দিকে ধাবিত হওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরো বেশি বিপদে ফেলবে। চারপাশের সচ্ছলরা এখনো নানাভাবে নিম্নবিত্ত হত দরিদ্রদের দায়ে-ঘায়ে পাশে দাঁড়াতে পারছে। বিত্তহীনতা তাঁদের সেই চ্যারিটি করার সক্ষমতাকে আরো সঙ্কুচিত করবে।
পারস্পরিক উন্নয়ন, অবনমন ও মিথস্ক্রিয়া এই কয়েকটা শ্রেণির মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে।
প্রকাশকালঃ ১লা জুলাই,২০২০
সাম্প্রতিক মন্তব্য